বাংলাদেশে পানিতে ডুবে প্রতিদিন গড়ে ৪৮ জন শিশু মারা যাচ্ছে, যা বছরে সাড়ে ১৭ হাজারে পৌঁছায়। বিশেষজ্ঞরা পানিতে ডুবে মৃত্যুরোধে সাঁতার শেখার পাশাপাশি পুকুরে বেষ্টনী দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
চট্টগ্রামের ক্রীড়া সাংবাদিক নজরুল ইসলাম সম্প্রতি তার ছয় বছরের পুত্র তামিমকে হারিয়েছেন, যিনি মাদ্রাসা থেকে ফেরার পথে পুকুরে ডুবে মারা যান। তামিমের মতো প্রতিদিন সারাদেশে ৪৮ জন শিশু পানিতে ডুবে প্রাণ হারাচ্ছে।
চট্টগ্রামে গত তিন মাসে পুকুরে ডুবে ও বন্যার পানিতে ২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের ৮০ শতাংশই শিশু। অভিভাবকদের নজরদারির অভাব এবং সাঁতার না জানাকে মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মতে, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু একটি নীরব মহামারী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাংলাদেশে এই সমস্যা প্রতিরোধে নেওয়া উদ্যোগ যথেষ্ট নয়।
আগামী সোস্যাল ফাউন্ডেশনের পরিচালক সোহেল ইয়াসিন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে এত শিশু কেবল পানিতে ডোবার মতো দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে; যা কিনা সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়া বলেন, ‘শিশুদের পানির আশপাশে নজর রাখা, উন্মুক্ত জলাশয়ের চারপাশে বেড়া দেওয়া এবং বড় পাত্র ঢেকে রাখা জরুরি। পাশাপাশি ছয় বছর বয়সে সন্তানকে সাঁতার শেখানো উচিত।’
বিশেষজ্ঞরা সরকারি উদ্যোগে পুকুরের চারপাশে বেষ্টনী দেওয়ার পাশাপাশি স্কুল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরির তাগিদ দিচ্ছেন।