যৌন অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খানকে অপসারণ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তে প্রমাণ না মিললেও সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পরিষদ ‘অ্যাসেম্বলি অব স্টেটস পার্টিজ’ (এএসপি) এ সিদ্ধান্তে পক্ষে ভোট দিয়েছে।
গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটে ১২৫ সদস্যরাষ্ট্রের মধ্যে ৮২টি দেশ করিম খানের অপসারণের পক্ষে ভোট দেয়। আইসিসির পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পাইভি কাউকোরান্তা বলেন, ‘সদস্যরাষ্ট্রগুলো সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে যে করিম খান গুরুতর অসদাচরণ ও দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন। এর ফলে তাকে পদ থেকে অপসারণ করা হবে।’
করিম খান, যিনি ৫৬ বছর বয়সী ব্রিটিশ ব্যারিস্টার, জুন মাসে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে তাঁর আইনজীবী তাইয়াব আলী এ সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি দপ্তর (ওআইওএস) করিম খানের বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পায়নি।
আইসিসির সদস্যরাষ্ট্রগুলো করিম খানকে অপসারণের অনুমোদন দেয়ার পর, তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগকারী এক নারী সিএনএনকে জানান, করিম খানের আচরণ ক্রমেই স্পর্শকাতর ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালে করিম খান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছিলেন। পরবর্তীতে আইসিসি সেই পরোয়ানা জারি করলে আদালত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে।
আইসিসি জানিয়েছে, নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত উপপ্রধান কৌঁসুলি নজহাত শামিন খান ও মামে মান্দিয়ায়ে নিয়াং প্রসিকিউটরের দপ্তরের দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী বছরের আগে নতুন প্রধান কৌঁসুলি নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম।