রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
ব্রেকিং
রাজনীতি

সোনম ওয়াংচুকের হাসপাতাল বিতর্ক: 'মানসিক চাপের দায় আপনাদের' দাবি

সোনম ওয়াংচুকের হাসপাতাল বিতর্কে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়, মানসিক চাপের দায় নিয়ে মন্তব্য।

সোনম ওয়াংচুকের হাসপাতাল বিতর্ক: 'মানসিক চাপের দায় আপনাদের' দাবি

ভারতের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নিরাপত্তাকর্মীদের তর্কাতর্কির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ওয়াংচুককে বলতে শোনা যায়, "এই মানসিক চাপের কারণে যদি আমার মৃত্যু হয়, তার দায় আপনাদেরই নিতে হবে।"

২৪ জুলাই রাতে প্রকাশিত ভিডিওতে ওয়াংচুক প্রশ্ন তোলেন, ২৬ দিন অনশন করার পরও কি তাকে তার আন্তরিকতার প্রমাণ দিতে হবে? তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, "আমাকে গ্রেফতার করুন।" অনশনের ২০তম দিনে তিন ঘণ্টা ধরে তাকে হয়রানি করার অভিযোগ করেন।

ওয়াংচুক দাবি করেন, "মানুষকে এভাবে আটকে রাখা নির্যাতনের শামিল।" পরে তিনি হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে প্রতিবাদ জানান। এ সময় তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ২১ জুলাই ওয়াংচুককে মেদান্তা হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়া হলেও লিখিত আদেশ তখনও হাসপাতালের হাতে পৌঁছায়নি। এক কর্মকর্তা বলেন, "ওয়াংচুক সংবাদমাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্ত জানার পরই মেদান্তায় যেতে চাইছিলেন।"

সফদরজং হাসপাতালও একই ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, লিখিত আদালতের আদেশ পাওয়ার পরই ওয়াংচুককে মেদান্তার চিকিৎসক দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ওয়াংচুক ভিডিওতে অনশন ভাঙার কারণও ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে না— কেন্দ্র সরকারের এমন লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ১৮ জুলাই সফদরজং হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে বন্দির মতো রাখা হয়েছিল। তার দাবি, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে দেওয়া হয়নি এবং মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আপস করার সমালোচনার জবাবে ওয়াংচুক বলেন, "যদি আপসই করতে চাইতাম, তাহলে কি দিল্লির প্রচণ্ড গরমে ২৬ দিন অনশন করতাম?"

বিজ্ঞাপন