যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে যে শুল্ক আরোপ করেছে, সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন শুল্ক হারের আওতায় রয়েছে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আজ শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর ১০% থেকে ১২.৫% পর্যন্ত নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মার্কিন সরকার ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার অধীনে ৮৬টি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০টি অর্থনীতির ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
এই শুল্কের হার ২৪ জুলাই ২০২৬ রাত ১২টা ১ মিনিট (ওয়াশিংটন ডিসি সময়) থেকে কার্যকর হবে এবং এটি আগে ১২২ ধারার অধীনে কার্যকর করা সাময়িক ১০% বৈশ্বিক শুল্ক ব্যবস্থাকে প্রতিস্থাপন করবে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, এ দেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০% শুল্ক প্রযোজ্য হবে। এটি বিদ্যমান ‘মোস্ট-ফেভারড-নেশন’ (এমএফএন) শুল্ক হারের অতিরিক্ত হিসেবে কার্যকর হবে।
বিশ্বব্যাপী ৮৬টি দেশের মধ্যে ১৭টি দেশের জন্য সর্বনিম্ন ১০% শুল্কের স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। ফলে, যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক ও রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অক্ষুণ্ণ থাকবে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, বাংলাদেশকে যেখানে ১০% শুল্কের সম্মুখীন হতে হচ্ছে, সেখানে চীন, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলো ১২.৫% শুল্কের আওতায় পড়বে।
এছাড়াও, ইউএসটিআর বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াসহ চারটি দেশের জন্য তিন বছর মেয়াদি ‘ট্যারিফ-রেট কোটা’ (টিআরকিউ) ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক শ্রম মানদণ্ড সমুন্নত রাখতে বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতগুলোর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে কাজ চালিয়ে যাবে।