গাইবান্ধার হরিজন সম্প্রদায় স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও তীব্র বৈষম্যের শিকার। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন না হওয়ায় তারা এখনও নানা ক্ষেত্রে প্রবেশাধিকার থেকে বঞ্চিত।
জেলায় প্রায় ১ লাখ দলিত ও হরিজন সদস্য সরকারি জমিতে ঝুপড়ি তুলে বা ছোট কলোনি করে বসবাস করছেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পেশায় তারা বংশ পরম্পরায় কাজ করলেও স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করতে পারেন না। খাবার গ্রহণের জন্য তাদের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এবং পানির জন্য গ্লাস বা মগও প্রদান করা হয় না।
অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল এই জনগোষ্ঠীর আবাসন সমস্যা প্রকট। ঘাঘটপাড়, রেলগেটসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে নদীর পাড় ও পরিত্যক্ত খাস জমিতে তাদের বসতি গড়ে উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা একটি স্থায়ী কলোনি নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছে।
জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন তাদের দাবির প্রতি প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, দলিত জনগণের মানবাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে সরকারের ভূমিকা অপরিহার্য।
গাইবান্ধা অবলম্বনের নির্বাহী পরিচালক প্রবীর চক্রবর্ত্তী বলেন, ‘দলিত জনগণের মানবাধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিতে জন-সচেতনতার পাশাপাশি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়া উচিত।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, ‘সবার সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। হরিজনদের জীবনমান উন্নয়নে আমরা বেশকিছু উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।’
হরিজনদের প্রতি বৈষম্য দূর করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সমাজকর্মীরা সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।