রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছর আগে তিনি এই পদত্যাগপত্রটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে জমা দেন।
শারীরিক অসুস্থতাকে পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে।’
মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর চিঠিতে আরও জানান, ‘ইদানীং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই।’ তিনি উল্লেখ করেন, অসুস্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি পদত্যাগপত্রে লেখেন, ‘আমি বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ খ্রি. সনের ২৪ এপ্রিল শপথ গ্রহণ করি এবং নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি।’
মো. সাহাবুদ্দিন আরও জানান, ‘৫ই আগস্ট ২০২৪ সনে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। আমি রাষ্ট্রপতি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের মতামত কামনা করি এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করি।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে গঠিত হয়েছে এবং সরকারি ও বিরোধী দল জাতীয় সংসদে গণতান্ত্রিক চর্চা করছে। আমার সুদৃঢ় ভূমিকার কারণে দেশে কোনো সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।’
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগপত্রে সই করার সঙ্গে সঙ্গে তা কার্যকর হয়ে যায়। মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৯০ দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে।