পাকিস্তান–নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে আসন্ন আইনসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে আন্দোলনকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৪ জন সাধারণ বিক্ষোভকারী এবং ৬ জন পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাওয়ালকোট ও মুজাফফরাবাদসহ পুরো অঞ্চলে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ সহিংসতার প্রধান কারণ হিসেবে জয়েন্ট অ্যান্ড অল পার্টিজ অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) আন্দোলনকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
১৯৭০-এর দশকে ভারতশাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত কাশ্মীরিদের জন্য স্থানীয় আইনসভায় ১২টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। তবে, জেএএসির দাবি, এসব আসনে কাশ্মীরের বাইরে অবস্থানরত প্রার্থীরা প্রতিনিধিত্ব করছেন, ফলে স্থানীয়রা প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
সরকার এই ১২টি আসন বাতিলের দাবি অগ্রাহ্য করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ করেছে, যা সহিংসতার দিকে নিয়ে গেছে। রাওয়ালকোটে, এক যুবক লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪০ দিন ধরে পুরো অঞ্চলে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রেখেছে। বিরোধীরা এই পদক্ষেপকে সাধারণ মানুষের জন্য ‘শাস্তি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সহিংসতার কারণে নির্বাচনী প্রচারণা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিরোধী ও সরকারি দলের প্রার্থীরা বড় কোনো সমাবেশ করতে পারছেন না। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ফালকার তুর্ক সহিংসতার নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জেএএসিকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
পাকিস্তান সরকার আগামী ২৭ জুলাই থেকে তিন ধাপের নির্বাচনের বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছে, তবে স্থানীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান আতঙ্ক ও বিধিনিষেধের মধ্যে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না।