সারা দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। ময়মনসিংহ, বরিশাল ও খুলনাসহ বিভিন্ন জেলায় এডিস মশাবাহিত এই রোগের বিস্তার ঘটছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি বিবেচনায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
ময়মনসিংহে প্রতিদিন নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নানা উদ্যোগের কথা বলা হলেও নগরবাসীর অভিযোগ, কার্যকর ব্যবস্থা নেই। মাসের প্রথম ২০ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ২০০ ডেঙ্গু রোগী।
ময়মনসিংহ মেডিকেলের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া রোগী এমদাদুল হক জানান, স্থানীয় এলাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। শহরের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর মধ্যে সেনবাড়ি, সানকিপাড়া, লিচুবাগান এবং নওমহল উল্লেখযোগ্য।
ময়মনসিংহ মেডিকেলের চিকিৎসক মোস্তুফা ফয়সাল বলেন, ‘বৃষ্টির পানি জমে এডিস মশা জন্ম নিচ্ছে। সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন।’ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনোজ্জামান রোকন জানান, ‘ডেঙ্গু রোধে মশা নিধনের কাজ চলছে।’
এ বছর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ৫ জন মারা গেছেন। বরিশাল ও খুলনায়ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২১ দিনে ১ হাজার ১৯৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং দুজন মারা গেছেন।
বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য কার্যালয়ের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম বলেন, ‘জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার দ্রুত হচ্ছে। কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ২২৭ রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন, তবে আলাদা ইউনিট না থাকায় অন্য রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসা চলছে।
রোগী বাড়লেও, পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে আলাদা ইউনিট চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফোকাল পারসন ডা. শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।