বিশ্ববিদ্যালয়ের টংয়ের দোকানে বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা চলাকালীন একজনের চিৎকার, 'ভাই, আমাকে প্রচুর মশা কামড়াচ্ছে!' শোনা যায়। অন্যদিকে, পাশের বন্ধু বলেন, 'আমাকে তো একটাও কামড়াচ্ছে না!' এ ধরনের পরিস্থিতি আমাদের কাছে পরিচিত। কিন্তু কেন একই স্থানে বসেও একজনকে মশা বেশি কামড়ায়, আর অন্যজনকে প্রায় ছুঁয়েও দেখে না?
গবেষণায় দেখা গেছে, মশাকে আকৃষ্ট করার মূল কারণ হল কার্বন ডাই-অক্সাইড। নিঃশ্বাস ও ত্বক থেকে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড মশাদের আকর্ষণ করে। গায়ের বা চুলের রঙের কোনো প্রভাব নেই। মশা প্রায় ১০ মিটার বা ৩৩ ফুট দূর থেকে এই সংকেত শনাক্ত করতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের দেহ থেকে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়, তাই তারা বেশি আকৃষ্ট হন।
সাধারণত স্ত্রী মশাই কামড়ায়, কারণ ডিম পাড়ার জন্য তাদের রক্তের প্রয়োজন। পুরুষ মশা ফুলের রেণু ও মধু খেয়ে বেঁচে থাকে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, মশা তাপ এবং আর্দ্রতার প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়। গ্রীষ্ম বা বর্ষাকালে মশার সংখ্যা বেড়ে যায়, কারণ তারা কম তাপমাত্রায় টিকে থাকতে পারে না।
যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক স্টিভ লিন্ডসে বলেন, দেহে থাকা রাসায়নিক পদার্থ শরীরের গন্ধ নির্ধারণ করে, যা মশাকে সংকেত দেয় কাকে কামড়াবে। ত্বকে থাকা অ্যামোনিয়া, ল্যাকটিক অ্যাসিড ও কার্বক্সিলিক অ্যাসিড মশার আকর্ষণকে শক্তিশালী করে।
মানবদেহের ব্যাকটেরিয়াও মশা কামড়ানোর পেছনে একটি কারণ। একেকজনের শরীরে ব্যাকটেরিয়ার প্রকার ও সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় গন্ধের তারতম্য ঘটে। যমজদের ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, অভিন্ন যমজদের মশা একভাবে কামড়ালেও ভিন্ন যমজদের ক্ষেত্রে আলাদা হয়।
মশা বর্তমানে আতঙ্কের নাম, কারণ তারা বিভিন্ন রোগ বহন করে। বাংলাদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া রোগের প্রকোপ উল্লেখযোগ্য। চলতি বছরের জুলাই মাসে ৯,২০৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৩৬ জন মারা গেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৫,৩১০ জন।
মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, আবাসস্থলের আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং ময়লা পানি জমে না থাকার দিকে খেয়াল রাখতে। মশা কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রতি দুর্বল, তাই বোতলজাত কার্বন ডাই-অক্সাইডকে মশা ধরার ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।