বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর শুধুমাত্র একটি মৌসুমি রোগ নয়, বরং এটি একটি জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংকটের প্রতীক হয়ে উঠেছে। এক সময় রাজধানী ঢাকাকে কেন্দ্র করে সীমাবদ্ধ ছিল, বর্তমানে এটি দেশের প্রত্যন্ত জেলা ও গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতার অভাব—এসব কারণে ডেঙ্গু আজ বাংলাদেশের জন্য একটি ভয়াবহ হুমকি। ২০২৩ সালটি ডেঙ্গুর ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে ৩ লাখ ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ১ হাজার ৭০৫ জনের মৃত্যু ঘটে।
২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখের বেশি এবং ২০২৫ সালে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ডেঙ্গু ভাইরাস এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায় এবং এর উপসর্গগুলোর মধ্যে সাধারণ জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও গিঁটে তীব্র যন্ত্রণা অন্তর্ভুক্ত।
ডেঙ্গু মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। বর্তমানে ডেঙ্গুর জন্য নির্দিষ্ট কোনো ওষুধ নেই, তাই এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং মশারি ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। রোগীরা প্রায়ই প্লাটিলেট সংখ্যা নিয়ে আতঙ্কিত হন, অথচ চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা অধিক গুরুত্বপূর্ণ।
অসুখের শুরুতেই রোগীকে এমন একটি হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে যেখানে জীবন রক্ষাকারী সব ব্যবস্থা রয়েছে। বর্তমান সময়ে ডেঙ্গুর উপসর্গ প্রায়ই স্নায়বিক দুর্বলতা এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাজির হয়, যা সময়মতো চিকিৎসা না পেলে মারাত্মক হতে পারে।
ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াই কেবল সরকারের নয়, বরং এটি নাগরিক, পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত দায়িত্ব। সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি পরিবার একটি মহল্লাকে নিরাপদ রাখতে পারে।