বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ রোধে আইন থাকা সত্ত্বেও এই সামাজিক সমস্যা অব্যাহত রয়েছে। পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ৫৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয় ১৮ বছরের আগে।
বাল্যবিবাহের কারণে মাতৃমৃত্যু এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব এবং অভিভাবকের অসচেতনতা এই সমস্যার প্রধান কারণ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পরিচালিত যৌথ জরিপে দেখা যায়, দেশে ৫৬ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছরের কম বয়সে হয়ে থাকে।
এতে কিশোরী মাতৃত্বের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। প্রতি হাজারে ৯২ জন কিশোরী মা হচ্ছে, যা মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জাতীয় জরুরি সেবা ট্রিপল নাইনের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম ৬ মাসে বাল্যবিবাহ বিষয়ক সেবা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৮২৬টি। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৫টি।
১৯২৯ সালে ব্রিটিশ আমলে বাল্যবিবাহ বন্ধে প্রথম আইন প্রণীত হয়। পরবর্তীতে ২০১৭ সালে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন কার্যকর করা হয়। তবে দারিদ্র্য, সামাজিক রীতি ও কুসংস্কারের কারণে বাল্যবিবাহ কমছে না।
অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেকটর ফারাহ কবির বলেন, ‘অনেক অল্প বয়সে একটি মেয়ের বিয়ে হচ্ছে। তাকে এই বয়সে যে দায়িত্ব দেওয়া হয় সেটির জন্য সে শারীরিকভাবে এবং মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়।’
সমাজসেবা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষার অভাবও বাল্যবিবাহের অন্যতম কারণ। সংকট মোকাবিলায় ৪৯৫টি এলাকায় শিশু কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতনতা প্রশিক্ষণসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব বলেন, ‘৪৯৫টি উপজেলায় শিশু কল্যাণ বোর্ডকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার চেষ্টা করছি।’ তিনি বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে পজিটিভ প্যারেন্টিং প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে বাবা-মা শিশুদের সঠিকভাবে বড় করতে পারেন।
প্রচলিত আইনে, কোনো শিশুকে বিবাহে বাধ্য করা বা বাল্যবিবাহ দেওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ।