ভারতের শিক্ষাবিদ ও আন্দোলনকর্মী সোনম ওয়াংচুক এখনও হাসপাতালে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, যন্তর মন্তরে অবস্থানরত ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) তাদের আন্দোলন ছাড়তে নারাজ। আজ বুধবার সকাল থেকেই সেখানে ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। তাঁদের একমাত্র দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
এই আন্দোলনের প্রভাব এখন শুধু ভারতে নয়, নিউ ইয়র্ক ও লন্ডনেও ছড়িয়ে পড়েছে। ওয়াংচুকের সমর্থনে বিক্ষোভ হয়েছে এই দুই শহরে। বিজেপি বিরোধী জোটও আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছে। দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের মিছিলে লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস নিয়ে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলোর সামনে ধর্নায় বসেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, ওয়াংচুকের প্রতি সংহতি জানিয়ে আমেরিকার একটি ‘অ্যাডভোকেসি গ্রুপের’ সদস্যরা নিউ ইয়র্ক ও সান হোসে শহরে বিক্ষোভ করেন। নিট কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সিজেপির সংসদ অভিযান সোমবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বাধা কাটিয়ে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছালেও, শেষ পর্যন্ত সেখানে পৌঁছাতে পারেননি।
সিজেপি ও বিরোধী নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ দমনমূলক আচরণ করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও উদ্ধব ঠাকরে সহ অন্যান্য নেতারা পথে নেমেছেন। মঙ্গলবার মোদির বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের বিক্ষোভের পর রাহুলকে আটক করা হয়।
আটক থাকার সময় রাহুল একটি ভিডিও পোস্ট করে কেন্দ্রের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানান। তিনি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহেরও পদত্যাগের দাবি তোলেন। এছাড়া, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলাকারী পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ছাত্রদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর প্রত্যাহারের দাবি জানান।
২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘আরশোলাদের’ পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন। তার পরের দিনই ছাত্র-যুবদের মিছিলে ‘পুলিশি হামলা’ নিয়ে আলোচনা চেয়ে নোটিস দেন রাজ্যসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক নাদিমূল হক। সিজেপির আন্দোলনের পাশে রয়েছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, যিনি ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে যন্তর মন্তরে গিয়েছিলেন।
মহুয়া মঙ্গলবার দিল্লির রাস্তায় প্রতিবাদে যোগ দেন। বুধবার সকালে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করে তিনি জানান, সরকার যতই চেষ্টা করুক, বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তর ছাড়ছেন না। এই আন্দোলন সরকারের কাছে ‘আউট অফ সিলেবাস’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।