সরকার পরিচালনার অংশ হতে চান বিএনপির দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গী শরিক দলগুলোর নেতারা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন তারা, যা সরকারের কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় ভূমিকা রাখার সুযোগের আশা জাগিয়েছে।
বৈঠকে জোটের ভবিষ্যৎ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সাথে রাজপথে ছিল একাধিক দল, এবং তাদের কেউ কেউ ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনও করেছেন।
সরকার গঠনের ৫ মাস পর প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বৈঠকে বসেন শরিক দলের নেতারা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার গঠনের পর জোটের শরিকদের সাথে আশানুরূপ সমন্বয় হয়নি।
গণফোরামের সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, "আমরা খুব বিব্রত বোধ করি। সরকারের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আগে যেভাবে আমাদের আমন্ত্রণ ও বক্তব্য দিতে সুযোগ দেওয়া হতো, সেভাবে আমরা এখন পাচ্ছি না।" তিনি অতীতে যেভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, সরকারের পরিচালনায়ও তাদের সেভাবে সম্পৃক্ত রাখার দাবি জানান।
শরিক নেতাদের কণ্ঠে আশাবাদের সুর ছিল। তাদের বিশ্বাস, জোট শরিকদের সাথে নিয়েই আগামীতে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেবে সরকার।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক চেয়ারম্যান এহসানুল হুদা বলেন, "দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই গুপ্ত–সুপ্ত–দোসরদের ফেস করতে হচ্ছে সরকারকে।" তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী শরীকদের মূল্যায়ন করার অঙ্গীকার করেছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, "কিছু নেতার না পাওয়ার বেদনাও ছিল।" তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সকলকে আস্থার মধ্যে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করার জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে, তিনি অভিযোগ করেন যে বিরোধী দলের অপপ্রচার যথাযথভাবে বিএনপি মূল্যায়ন করতে পারছে না।
শরিক নেতারা সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের অপপ্রচার নিয়ে সরকারকে আরো কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান।