ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ১১ জন সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার পদ থাকলেও বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র একজন। এই পরিস্থিতিতে ২১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও একজন হিসাব সহকারীর ওপর নির্ভর করছে।
অফিসের অধিকাংশ কক্ষ তালাবদ্ধ থাকায় শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নবীনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব সহকারী মো. আবু হানিফ জানান, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে অতিরিক্ত কাজের চাপ তার স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
তিনি বলেন, "২০১২ সালে অফিসে চারজন কর্মচারী ছিলেন। এখন আমি একাই দাপ্তরিক ও আর্থিক সব কাজ সামলাচ্ছি।" আবু হানিফের মতে, "২১৯টি বিদ্যালয় ও প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষক এবং শতাধিক দপ্তরির কাজ একাই করতে হচ্ছে।"
শিক্ষকদের মধ্যে দুর্ভোগ বেড়ে গেছে। আতিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক জানান, একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার পক্ষে ২১টি ইউনিয়নের বিদ্যালয় তদারকি করা সম্ভব নয়।
গোসাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. তাসলিমা জাহান বলেন, "জনবল সংকটের কারণে প্রশাসনিক কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা যাচ্ছে না।"
এদিকে, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মানিক ভূঁইয়া জানান, ২১৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৫০টিতে প্রধান শিক্ষক নেই এবং সহকারী শিক্ষকেরও প্রায় দেড় শতাধিক পদ শূন্য রয়েছে।
স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান জাতীয় সংসদে এই সংকট তুলে ধরেছেন এবং বলেছেন, "জনবল সংকটের কারণে নবীনগরের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।"