বিশ্বব্যাংক সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ১০ বছরের একটি শিশু সাধারণ বাংলা বা ইংরেজি রিডিং পড়তে পারছে না, এমনকি সাধারণ যোগ-বিয়োগেও তারা অক্ষম। দেশের ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি স্কুল ও ২ কোটি শিশুর বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে, শিক্ষার মানে ভয়াবহ শিখন ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার বিস্তার একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হলেও, শিক্ষার মানের ক্ষেত্রে অগ্রগতি নেই। ২০১১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা পড়ার সক্ষমতা ৬৭ শতাংশ থেকে কমে ৫১ শতাংশে নেমে এসেছে। গণিতে কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা ৫০ শতাংশ থেকে নেমে মাত্র ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
শিক্ষাবিদরা ৫টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছেন, যার মধ্যে করোনার দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকা, শিক্ষক সংকট, দক্ষতার ঘাটতি, বারবার কারিকুলাম পরিবর্তন এবং দরিদ্র শিশুদের শিক্ষা উপকরণের অভাব উল্লেখযোগ্য।
২০১১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষায় ৩৩ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় করা হয়েছে, কিন্তু ফলাফল খারাপ হয়েছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, সরকার মূল সমস্যা—মেধাবী শিক্ষক তৈরি এবং শ্রেণীকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার দিকে যথেষ্ট মনোযোগ দিচ্ছে না।
সরকার বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৪১ হাজার ৭৬১ কোটি টাকার নতুন প্রকল্প নিয়ে আসছে, যার আওতায় ৩২ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষকদের ট্যাব প্রদান করা হবে। তবে, শিক্ষার মান উন্নয়নে স্থায়ী শিক্ষা কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।