দেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির মতো পার্বত্য অঞ্চলে গ্রামীণ অবকাঠামো পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। সড়ক, সেতু ও কালভার্ট ভেঙে লাখো মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
উত্তরের জেলা নীলফামারীতে তিস্তার পানি কমলেও নদী রক্ষা বাঁধের তীব্র ভাঙন ঝুঁকি তৈরি করছে। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও লোহাগড়াসহ ৭টি উপজেলায় বন্যার পানি নামার পর ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বন্যায় ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬০টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বান্দরবানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পর্যটনকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হলেও, রাঙ্গুনিয়ায় সেতু ধসে পড়ায় রাঙামাটির সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এখনও বন্ধ রয়েছে। খাগড়াছড়িতে দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়ক যোগাযোগ দীর্ঘ ৬ দিন পর স্বাভাবিক হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ২৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় পানি কমলেও কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বাড়ায় নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। জেলাটিতে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। খাগড়াছড়ির সওজ নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার জানান, বন্যায় জেলার কৃষি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চাঁদপুর পৌরসভা, হাজীগঞ্জ ও মতলবের নিম্নাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টির ফলে প্লাবিত হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। মতলব সেতুর পাশে মাটি সরে গিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে এবং গ্রামীণ বেশ কয়েকটি সড়কে ফাটল দেখা দেওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
মৌলভীবাজারে বন্যায় ৯৫ কিলোমিটার সড়ক এবং ৫টি সেতু-কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২৫০ হেক্টরের বেশি সবজি ক্ষেত প্লাবিত হয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন এবং টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য সরকারী বরাদ্দ ও পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন বন্যাকবলিতরা।