সিলেটের টিলা ও বনভূমি অবৈধভাবে কেটে ঘর-বাড়ি এবং স্থাপনা নির্মাণের ফলে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। পরিবেশবাদীদের মতে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় গত তিন দশকে নগরীর প্রায় ৫০ শতাংশ টিলা বিলীন হয়ে গেছে।
নতুনবাজার এলাকায় দিনে দুপুরে অবৈধভাবে টিলা কেটে বসতঘর নির্মাণ করা হচ্ছে, তবে এ বিষয়ে কোনো তদারকি নেই। গোলাপগঞ্জ, বিয়ানীবাজার ও জৈন্তাপুরসহ অন্যান্য উপজেলাতেও একইভাবে টিলা ও বনভূমি বিলীন হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, আবাসন এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে নির্বিচারে টিলা কাটা চলছে।
এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “পাহাড় কাটার সিন্ডিকেট অনেক বড়। তারা সব সময় টিলা কেটে ব্যবসা করতে চায়।” অপর এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, “তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে টিলা কাটে, যা আমাদের পরিবেশ নষ্ট করছে।”
পরিবেশবাদীরা জানান, গত তিন দশকে নগরীর প্রায় ৫০ শতাংশ টিলা হারিয়ে গেছে, কিন্তু আইন থাকা সত্ত্বেও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সংগঠনের সদস্যসচিব আব্দুল করিম কিম বলেন, “প্রশাসনের অভিযান যথাযথ নয়। তারা ঢিলেঢালা আচরণ করছে।”
পরিবেশ অধিদপ্তরের দাবি, টিলা কাটার খবর পেলেই তারা অভিযান চালায় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নেয়া হয়। সিলেটের পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান, “১৩টি উপজেলায় কাজের জন্য আমার মাত্র দুইজন অফিসার রয়েছে, যা আমাদের কাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।” সিলেট জেলায় ১ হাজার ৩৫টি ছোট-বড় টিলা ছিল, তবে গত ২৫ বছরে প্রায় ৫০ শতাংশ টিলা কাটা হয়েছে।