ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৭ হাজারের বেশি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে বিদেশি প্রজাতির গাছ যেমন মেহগনি, দেবদারু, পাম, রেইন ট্রি ও সেগুন গাছের সংখ্যা বেশি। দেশীয় প্রজাতির গাছের সংখ্যা ৫৮ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার গাছ জরিপের ফল প্রকাশ করে উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষকরা এসব তথ্য জানান। জরিপের মাধ্যমে ফল, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের সংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গাছ গণনা এক বছর আগে শুরু হয়। জরিপটি কলা ভবন, মলচত্তর, ভিসি চত্তর, টিএসসি, কার্জন হলসহ আবাসিক হল এলাকায় পরিচালিত হয়। এতে ৬২ গোত্রের ২৭৭ প্রজাতির ১৭ হাজার ১৬১ বৃক্ষ শনাক্ত করা হয়েছে।
গবেষকরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাজুড়ে গাছ গণনা এটাই প্রথম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘এ বৃক্ষ শুমারি ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি বায়ুদূষণ সহনশীল দেশীয় বৃক্ষরোপণ, জলাধার সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আলোচকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজায়ন প্রক্রিয়াকে আরও বৈজ্ঞানিক এবং কৌশলগত করার প্রস্তাব দেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘বৃক্ষ শুমারির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বৃক্ষসম্পদ সম্পর্কে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে।’
তিনি দেশীয় ও পরিবেশবান্ধব প্রজাতির বৃক্ষরোপণ সম্প্রসারণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সবুজ, নান্দনিক ও টেকসই ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরবরিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে সবুজ এলাকায় কংক্রিটের রাস্তার কারণে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধা পাচ্ছে। অনেক গাছ মারাও যাচ্ছে।’
গবেষকরা আরবরিকালচার সেন্টারকে গবেষণা কেন্দ্রে রূপান্তরের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল ট্রি মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেন।