বরিশাল বিভাগে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যা স্বাস্থ্য বিভাগের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
পিরোজপুর ও ঝালকাঠি জেলায় সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, কিন্তু আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ড না থাকায় তাদের সাধারণ ওয়ার্ডে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
রোগীদের অভিযোগ, স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত মশার ওষুধ না ছিটানো এবং ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করার কারণে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য মেডিসিন ইউনিটের সংখ্যা ৪ থেকে বাড়িয়ে ৬ করা হয়েছে।
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক আব্দুল মুনায়েম সাদ বলেন, "গত বছরের মতো এ বছরও পিরোজপুর, বরগুনা ও অন্যান্য জেলায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। আমরা পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধ মজুত রেখেছি এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে সচেতনতা জরুরি।"
বরিশাল সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, "সিটি করপোরেশনের এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে এবং মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।"
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বরিশাল বিভাগে ২ হাজার ১১৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে পিরোজপুরে ৫৬৫, ঝালকাঠিতে ৪৬৪ এবং পটুয়াখালীতে ৩৪৯ জন রোগী রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।