রাজশাহী বিভাগে এইডস (এইচআইভি) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ৬ বছরে বিভাগের আট জেলায় ৭৯৪ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় শনাক্ত হয়েছে ১৩৯ জন, যাদের বেশির ভাগের বয়স ১৮ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় মোট ১৩৯ জন এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে ৯২ জন সমকামী, যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৬৬ শতাংশ।
রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭৯৪। জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জ আক্রান্তের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে, এরপর রাজশাহীর অবস্থান। সবচেয়ে কম আক্রান্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জে।
চিকিৎসকেরা জানান, সচেতনতার অভাব এবং সামাজিক সংকোচের কারণে অনেকেই সময়মতো পরীক্ষা বা চিকিৎসার আওতায় আসছেন না। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রামেকে কর্মরত এইডস সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইব্রাহিম মোহাম্মদ শারৎ বলেন, ‘প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে। এখানে দুটি বিষয় কাজ করছে। প্রথমত, অনেকেই আগে থেকেই পজিটিভ ছিলেন কিন্তু পরীক্ষা করতে আসতেন না। তারা মনে করতেন, পরীক্ষা করার পর চিকিৎসা নেই, যা সংক্রমণ বাড়াচ্ছে।’
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানান, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চলছে। রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) চিকিৎসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘অবাধে মেলামেশা, অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন এবং মাদকসেবীদের মাধ্যমে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে। আমাদের এইডস স্ক্রিনিং কার্যক্রম চালু আছে।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা, সহজলভ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং আক্রান্তদের জন্য বৈষম্যহীন সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা না হলে ভবিষ্যতে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।