বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। ১৭ জুন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, খাদ্যশস্যের মোট সরকারি মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি গুদামগুলোতে চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন, গমের মজুত ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুত বাদে মোট মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন।
বর্তমানে চলমান বোরো সংগ্রহ অভিযান অনুযায়ী, ১৭ জুন পর্যন্ত ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন এবং আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে চাল ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া জানিয়েছেন, ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। বর্তমানে মজুতের পরিমাণ খুবই নিরাপদ।
খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জামাল হোসেন বলেন, সরকার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ করছে এবং খাদ্য মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে।
বর্তমান খাদ্য সংগ্রহ অভিযান ৩ মে থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে, যেখানে ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।