কবি আল মুজাহিদীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার তিনি এক শোকবার্তায় বলেন, “তিনি ছিলেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের পক্ষে আজীবন সংগ্রামী।”
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “কবির মৃত্যুতে আমাদের সাহিত্য সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে যা সহজে পূরণ হবে না।” তিনি কবির আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
শুক্রবার দুপুরে একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি আল মুজাহিদী রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মৃত্যুকালে কবির বয়স ছিল ৮৩ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন তিনি।
১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার নারুচি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী আল মুজাহিদী ষাটের দশকের প্রখ্যাত কবি। প্রেম, জীবন ও মৃত্তিকা তার কবিতার মূল বিষয়। তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন তার দীপ্ত তারুণ্যে। ১৯৬৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগকে বাংলা ছাত্রলীগে রূপান্তরিত করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হন।
কবি আল মুজাহিদী মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তিনি কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস ও অনুবাদ মিলিয়ে প্রায় একশ’ গ্রন্থ রচনা করেছেন। সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বিভিন্ন পুরস্কার অর্জন করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ‘একুশে পদক’ ও ‘জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার’।
কবির উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘হেমলকের পেয়ালা’, ‘যুদ্ধ নাস্তি’, ‘মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা’ ও ‘সৌর জোনাকি’।