মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা লেবাননে হিজবুল্লাহর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুদ্ধবিরতির পর দক্ষিণ লেবাননে বাস্তুচ্যুতদের ফিরে আসা ইতিবাচক হলেও, দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে জটিলতা বাড়ার শঙ্কা রয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েল ২ মার্চ থেকে দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহকে নির্মূলের লক্ষ্যে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে বহু বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের পাশাপাশি অন্তত ৩,৮০০ মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনার সময় লেবাননে হামলা বন্ধ করার শর্ত পেশ করেছে। ওয়াশিংটনে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ চললেও সংঘাত পুরোপুরি থামেনি।
সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার ফলে দক্ষিণ লেবাননে স্বস্তি ফিরেছে এবং বাস্তুচ্যুতরা ফিরে আসা শুরু করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, হিজবুল্লাহ রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টারের উপ-পরিচালক মোহনাদ হাজে আলী মন্তব্য করেন, ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করে হিজবুল্লাহ রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কথা বলবে এবং অস্ত্র ছাড়ার কোনো কারণ দেখাবে না।
তিনি আরও বলেন, “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই সমঝোতা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার প্রচেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলবে। দীর্ঘমেয়াদে হিজবুল্লাহ লেবানন রাষ্ট্রের ওপর আরও বেশি প্রভাব বিস্তার করবে।”
এদিকে, ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ ছাড়বে না এবং সম্প্রতি সেনা অভিযানে দখল করা এলাকাগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।