জি৭ভুক্ত দেশের নেতারা লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দাবি জানিয়েছেন। বুধবার (১৭ জুন) ফ্রান্সের লেক জেনেভার তীরবর্তী শহর এভিয়ান-লে-বাঁয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে স্বাগত জানান।
নেতারা জানান, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে নতুন জ্বালানি সরবরাহের পথ তৈরির পরিকল্পনা করছে। এই চুক্তির বিভিন্ন তথ্য আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন হবে।
এক যৌথ বিবৃতিতে জি৭ নেতারা বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা উদ্বেগ মোকাবিলা করতে হবে এবং ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান চুক্তির বিষয়টি ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপানের নেতাদের সামনে তুলে ধরেন। যদিও এসব দেশ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের সঙ্গে একমত, তবে তারা যুদ্ধের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেনি।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো লেবাননের পরিস্থিতি। মার্চ মাসে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হামলা চালানো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের একটি বড় অংশ ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইরান জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে হলে লেবাননেও সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হবে এবং ইসরায়েলকে লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে, ইসরায়েল তাদের সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানায়।
জি৭ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরায়েলের ভূমিকা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট নয়।
জোটের নেতারা লেবাননে অবিলম্বে কার্যকর যুদ্ধবিরতি এবং হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানান। তারা হরমুজ প্রণালির ওপর বৈশ্বিক নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি জ্বালানির মজুত বৃদ্ধি করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।