বাগেরহাটের খানজাহান আলী মাজারে প্রদর্শিত কুমিরের হামলায় সম্প্রতি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই হামলা সংঘটিত হয়।
গবেষকরা জানান, ভারতের মাদ্রাজ থেকে আনা মিঠা পানির কুমিরের আদি কালা ও ধলাপাহাড়ের শেষ বংশধর ২০১৫ সালে মারা গেছে। ১৪০০ শতকে হজরত খান জাহান আলী দুটি কুমির মাজারের দিঘীতে ছেড়েছিলেন, কিন্তু ২০১৫ সালে তাদের শেষ বংশধর কালাপাহাড়ের মৃত্যু হলে তাদের ইতিহাসও শেষ হয়ে যায়।
২০০৫ সালে নতুন ৬টি কুমির দিঘীতে ছাড়া হয়, যাদের মধ্যে কয়েকটি নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে মারা যায়। ৬০০ বছরে কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড়ের বংশধরের হামলায় কারো নিহত হওয়ার নজির নেই, কিন্তু পরবর্তী কুমিরের হামলায় ২০০৮ সালে এক বৃদ্ধা এবং ২০২৬ সালে একটি শিশু নিহত হয়।
এ ঘটনার পর প্রশাসন কুমিরটিকে খুলনায় সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে, মাজারের খাদেমরা এই সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট। খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাজার পরিচালনাকারী কমিটির সদস্যরা কুমিরের দেখভাল করেন। তাই কুমির ফিরিয়ে দেওয়া উচিত।’
গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, হিংস্র প্রাণী মানুষের সহাবস্থানে রাখা ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ ধরনের প্রাণী প্রদর্শন দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী গবেষক ড. আলী রেজা খান বলেন, ‘কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণী উন্মুক্তভাবে প্রদর্শন করা দণ্ডনীয় অপরাধ।’
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুমির ফিরিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই এবং গবেষণার জন্য কুমিরটি সংরক্ষণ করা হবে।