২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্য পূরণে নতুন উৎস খুঁজতে সরকার ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য টিআইএন যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। তবে শিক্ষার্থী, ভাতাভোগী এবং কর অব্যাহতি প্রাপ্তরা এই নিয়মের আওতার বাইরে থাকবেন।
শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, নতুন গ্রাহকরা ব্যাংকিং সিস্টেমে আসতে আগ্রহী হবেন না। বিদ্যমান গ্রাহকরা কম টাকা রাখবেন এবং উচ্চ লেনদেনকারীরা লেনদেন কমাতে বাধ্য হবেন। তিনি বলেন, "এটি ক্যাশলেস সোসাইটির লক্ষ্যকে ব্যাহত করবে।"
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, টিআইএন ট্যাক্সের সাথে জড়িত। অনেক মানুষ ট্যাক্সের আওতায় আসতে ভয় পান, বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টিআইএন যুক্ত করা ক্যাশলেস লেনদেনের পথকে আরো কঠিন করে তুলবে।
এদিকে, ব্যাংক আমানতের ওপর আবগারি শুল্কে কিছু ছাড় দেওয়া হতে পারে, যা বর্তমানে ৩ লাখ টাকার আমানতের ওপর নেই। আগামী বাজেটে এটি ৫ লাখ টাকা হতে পারে। তবে ব্যাংকার ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, মূল আমানতের ওপর শুল্ক আরোপ করা উচিত নয়।
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, "যদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া হয়, তবে গ্রাহকরা ব্যাংকিং সিস্টেম থেকে বিমুখ হয়ে যাবে।" ড. এম মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করে বলেন, প্রিন্সিপাল অর্থের ওপর ট্যাক্স আরোপ করা হলে, মানুষ ব্যাংকে টাকা রাখতে চাইবে না।
বর্তমানে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থার মাধ্যমে বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আবগারি শুল্ক থেকে রাজস্ব আদায় করে থাকে।