নাটোরে রেল যোগাযোগ সহজ ও জনপ্রিয় হলেও অরক্ষিত রেলগেটগুলোর কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রেললাইনের ত্রুটি এবং নিয়মিত তদারকির অভাবের ফলে প্রায়ই ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এর ফলে প্রাণহানির পাশাপাশি রেলের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে।
জানা গেছে, নাটোরের ৭টি রেলগেটের মধ্যে ৫টিতে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ দেওয়া হলেও ২টি এখনও অরক্ষিত রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, রেললাইনের দুইপাশের ঝোপঝাড় ও বড় গাছের কারণে ট্রেনের আসা-যাওয়া বোঝা যায় না, যা দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এদিকে, ট্রেন আসার অনেক আগেই বড় রেলগেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, ফলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। রেললাইন তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগও রয়েছে, কারণ অনেক জায়গায় সিমেন্টের স্লিপার ভেঙে গেছে এবং পাথরের অভাব রয়েছে।
সাবেক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, বড় গেটগুলোতে ফ্লাইওভার বা আন্ডারপাস নির্মাণ এবং লাইনের পাশের গাছপালা পরিষ্কার করলে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। নাটোরের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী স্টেশন মাস্টার অশোক চক্রবর্তী বলেন, ‘এই গেটগুলো পায়ে হাঁটার রাস্তা ছিল। বন–জঙ্গলের কারণে রাস্তা পারাপারের সময় ট্রেন আসছে কিনা তা বোঝা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রেল কর্তৃপক্ষ যদি রাস্তার পাশের বন–জঙ্গল বা বড় গাছগুলো অপসারণ করে, তাহলে যাত্রীরা সতর্ক হয়ে রেললাইন পারাপার করতে পারবে।’ এসব বিষয়ে স্টেশন মাস্টার কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। যাত্রীরা রেলপথকে লাভজনক ও নিরাপদ করতে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।