ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। শনিবার (৬ জুন) বাংলাদেশে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইন করার চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর কঠোর অবস্থানের কারণে বেশ কয়েকটি সীমান্ত এলাকা থেকে ১০০ জনকে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
স্থানীয় বাসিন্দারাও বিজিবির সঙ্গে যোগ দিয়ে বিএসএফের অপতৎপরতা রুখে দেয়। নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, হিলি, মেহেরপুর ও লালমনিরহাটে পুশইনকৃত মানুষদের ভারতীয় ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।
মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়ির হাটপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বিএসএফ। স্থানীয়রা বিষয়টি জানিয়ে বিজিবিকে খবর দেয়, ফলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ঠাকুরগাঁওয়ের মশালগাঁও সীমান্ত দিয়েও ১১ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়, যা বিজিবির সদস্যরা প্রতিহত করে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইন প্রতিরোধে তারা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
লালমনিরহাটের ৪টি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে ৩৩ জনের পুশইন চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর অবস্থান ও নজরদারির কারণে বিএসএফ ভারতীয় ভূখণ্ডে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়।
গতকাল শুক্রবার সকালে নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ১৭ জনের পুশইন চেষ্টা হয়, তবে রাতেই তাদের ফেরত নেওয়া হয়। অন্যদিকে, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি প্রধান পাড়া সীমান্ত এলাকায় ১০ জন পুশইন হয়ে ৩৫ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছে।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়েছে এবং তারা এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এছাড়া, গত রাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে খুমি সম্প্রদায়ের ৪৭ জনকে বান্দরবানের রেমাক্রি হৈকু খুমি পাড়া থেকে হেফাজতে নেয় বিজিবি। পরবর্তীকালে তাদের পুশব্যাক করা হয়।