সাভারে চামড়া শিল্পের সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়া হাজারীবাগ থেকে সাভারে চামড়া শিল্প স্থানান্তর করা ঠিক হয়নি।
শনিবার ‘চামড়া শিল্পের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে তিনি সাভার চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার বা সিইটিপি সমস্যার স্থায়ী সমাধানের আহ্বান জানান। সেমিনারে ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা অভিযোগ করেন, নীতিগত ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাবের কারণে এই খাতটি ধ্বংসের মুখে পড়েছে।
আলোচকরা জানান, দেশীয় কাঁচামালের সহজলভ্যতা এবং সস্তা শ্রমের কারণে চামড়া শিল্পে অধিক মূল্য সংযোজন সম্ভব। তবে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ খাতের রপ্তানি আয় আটকে আছে এক বিলিয়ন ডলারের ঘরে।
অর্থায়ন, নীতিসহায়তা এবং অবকাঠামো সংকটের কারণে দেশের ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজার হারাচ্ছেন। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তরের মূল যুক্তি ছিল পরিবেশবান্ধব আধুনিক অবকাঠামো নিশ্চিত করা। কিন্তু স্থানান্তরের পরও সেই সুবিধাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি।
এদিকে, ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ ব্যাংকগুলো থেকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতা না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্যাংক সেভাবে অর্থায়ন করেনি, ফলে মৌসুমে বাজার থেকে চামড়া কিনতে সমস্যা হয়েছে।
জেনিস সুজ-এর চেয়ারম্যান নাসির খান সরকারের নীতিমালার সমালোচনা করে বলেন, সরকার যেন ইচ্ছে করেই এই সেক্টরকে ধ্বংস করছে। অর্থনীতিবিদরা ট্যানারি মালিকদের আন্তর্জাতিক বাজারের নতুন শর্তগুলো পূরণের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের হাজারীবাগের জমি বিক্রি করার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যা দূর করা প্রয়োজন। তিনি ব্যাংকিং সেক্টরের বিশেষ সহায়তার দাবি জানান।
আলোচনায় বক্তারা কোরবানির ঈদে লাখ লাখ পিস চামড়া নষ্ট হওয়ার সংকট এবং খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীদের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা সরকারের অবিলম্বে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।