নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষস্তরের চার দিনের বৈঠক গতকাল বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। বৈঠক শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে স্বাক্ষরের পর দুই বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেননি। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এটি প্রথমবারের মতো ঘটল।
ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গতকাল বৃহস্পতিবার (১১ জুন) একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, ৮ জুন থেকে ১১ জুন বিএসএফ সদর দফতরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। উভয় পক্ষ সীমান্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কিত উদ্বেগগুলো তুলে ধরেছে।
বৈঠকে মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, স্বর্ণসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ দ্রব্যের চোরাচালান, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং মানবপাচার প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সীমান্তে মৃত্যু, পুশ ইন এবং বেড়া দেওয়ার বিষয়গুলোও আলোচনা করা হয়।
দুই বাহিনী বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তারা সমন্বিত টহল আরও জোরদার, সতর্কতা বৃদ্ধি এবং তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তাকে ক্ষুণ্ন করে এমন যেকোনো পদক্ষেপের প্রতি জিরো টলারেন্স গ্রহণের যৌথ সংকল্পও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। উভয় পক্ষ বৈঠকের ফলাফল নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং তা ইতিবাচকভাবে শেষ হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর দুই দেশের মধ্যে ডিজি-স্তরের সীমান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হত। ১৯৯৩ সালে এটিকে বছরে দু’বার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যেখানে উভয় পক্ষ পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় বৈঠকে অংশ নেয়।