২০১২ সালে বেইজিংয়ে বিল গেটস ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে একটি বৈঠকে তামাক নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৪ বছর পর, চীন এখনও তামাক ব্যবহারের মহামারির মুখোমুখি।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় চীনে সিগারেটের বিক্রি বেড়েছে ৩৯ শতাংশ, যেখানে গত ২০ বছরে সারা বিশ্বে বিক্রি কমেছে ২৬ শতাংশ। চীনে প্রতি বছর প্রায় ২.৪০ লাখ কোটি সিগারেট বিক্রি হয়, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের অর্ধেক।
চীনের তামাক বাজারের মূল কারণ হলো সিগারেটের সস্তা দাম। এক প্যাকেট সিগারেটের গড় মূল্য মাত্র ৩ ডলার, যা আমেরিকার তুলনায় তিন ভাগের এক ভাগ। তামাকের এই অর্থনৈতিক প্রভাবের পেছনে রয়েছে স্টেট টোব্যাকো মনোপলি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, যা বিশ্বের বৃহত্তম তামাক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, চায়না ন্যাশনাল টোব্যাকো করপোরেশনের অধীনে।
২০২৫ সালে এই প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা ও কর রাজস্বের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪৪ বিলিয়ন ডলার, যা চীনের জাতীয় রাজস্বের ৭ শতাংশ। চীনের অর্থনৈতিক সংকটের সময় এই তামাকের মুনাফা সরকারকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করছে।
তবে, তামাক সংস্থার রাজনৈতিক প্রভাবও অত্যন্ত শক্তিশালী। ২০১৭ সালে তারা ধূমপান নিষিদ্ধ করার আইনকে বাধা দেয় এবং স্থানীয় সরকারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। চীনের সিগারেট প্যাকেটে সতর্কবার্তা খুবই কম।
এদিকে, চীনের তরুণ প্রজন্ম বিশেষ করে নারীরা সরকারের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হচ্ছে। ইনফ্লুয়েন্সার আলভা ঝাং একটি গ্রুপ তৈরি করেছেন, যেখানে ধূমপায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
শি জিনপিংয়ের সরকার ধূমপায়ীর হার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে, কিন্তু সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তা উ জিয়াংতিয়ান জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য পূরণ করা অত্যন্ত কঠিন।