শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

বিশ্বের ২২ দেশে ১১৩ বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘট, অস্ত্র পরিবহন প্রতিরোধের আহ্বান

বিশ্বের ২২টি দেশের ১১৩টি বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘটের ডাক, অস্ত্র পরিবহনে প্রতিবাদ।

বিশ্বের ২২ দেশে ১১৩ বন্দরে শ্রমিক ধর্মঘট, অস্ত্র পরিবহন প্রতিরোধের আহ্বান

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিশ্বের ২২টি দেশের ১১৩টি বন্দরে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন ডকশ্রমিকরা। যুদ্ধের বিরোধিতা এবং অস্ত্র রফতানিতে বন্দর ব্যবহারের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ধর্মঘটের ফলে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ৪০ শতাংশের বেশি পণ্য পরিবহন ব্যাহত হতে পারে।

প্রথমে ইতালি, ফ্রান্স, গ্রিস, স্পেনের বাস্ক অঞ্চল, তুরস্ক ও মরক্কোর ডকশ্রমিক ইউনিয়নগুলো এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। পরে ১১৩টি বন্দরের ২৫টিরও বেশি শ্রমিক সংগঠন এর সমর্থনে এগিয়ে আসে। উল্লেখযোগ্য বন্দরগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানির হামবুর্গ, স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া, ফ্রান্সের লে আভর এবং ইতালির জেনোয়া।

এদিকে, গ্রিসের পিরেয়ুস বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দ্বীপগুলোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতালির জেনোয়া বন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সেখানে ধর্মঘটের প্রভাব সীমিত থাকতে পারে।

ধর্মঘটের আওতায় থাকা শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে জার্মানির ভের.ডি, আয়ারল্যান্ডের এসআইপিটিইউ, ডেনমার্কের থ্রিএফ এবং ফ্রান্সের সিজিটি পোর্টস এ দকস। ভারতের ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ফেডারেশনও (ডব্লিউটিডব্লিউএফআই) এই ধর্মঘটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

গ্রিসের বৃহত্তম বন্দর পিরেয়ুসের ডকশ্রমিকরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা শান্তির বার্তা দেবেন এবং যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করবেন। শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত তারা কাজ বন্ধ রাখবেন।

ইতালির তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন ইউএসবি দেশজুড়ে ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে, যার ফলে ৪০টিরও বেশি শহরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

শ্রমিক ইউনিয়নগুলো এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, 'আমাদের বন্দরগুলো যুদ্ধ ও গণহত্যার জন্য সরবরাহের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।' তারা যুদ্ধের কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র পরিবহনে বন্দরগুলোর ব্যবহার বন্ধ করতে হবে বলে দাবি করেছেন।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দরগুলোতে একযোগে এ কর্মসূচি পালিত হলে আন্তর্জাতিক পণ্য সরবরাহব্যবস্থা ও নৌবাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন