বঙ্গোপসাগরের হিরণপয়েন্টে ‘ওটি জান্নাতুল ফেরদৌস’ নামের একটি জাহাজের ধাক্কায় ‘এমভি ফুলবাড়ী’ নামের আরেকটি কার্গো জাহাজ ডুবে গেছে। সোমবার রাত ৯টার দিকে সুন্দরবনের সুন্দরী কোঠা এলাকায় ঘটে এই দুর্ঘটনা। জাহাজটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ১২৫০ মেট্রিক টন কয়লা বোঝাই করে ঢাকা যাচ্ছিল।
ঘটনার পর ১১ জন নাবিক ও কর্মী নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মাস্টার মো. সুজন, ড্রাইভার প্রশান্ত চন্দ্র শীল, সুকানী মো. শাকিল, গ্রিজার প্রসেনজিৎ রায়, লস্কর মেহেদী হাসান বাপ্পি, মো. হোসেন মোল্লা, মোহাম্মদ অলিউল্লাহ, মো. সোহান শেখ, বাবুর্চি মোহাম্মদ লিটু শেখ, নয়ন শেখ এবং গার্ড অনিল চন্দ্র সানা।
জাহাজটির মাস্টার মো. সুজন বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর আমরা সাঁতরে নদীর চরে উঠি এবং সেখানে অবস্থান করার সময় বাঘের গর্জন শুনতে পাই। আতঙ্কের মধ্যে কাটাতে হয়।’ রাত সাড়ে ১১টার দিকে অপর একটি জাহাজের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকারী জাহাজ ‘এমভি রানিয়া-১৩’-এর ক্যাপ্টেন মো. তুহিন ইসলাম জানান, তারা রাত ১১টার দিকে দুর্ঘটনার খবর পান এবং দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
মঙ্গলবার সকালে উদ্ধারকৃত নাবিকদের বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের মোংলা শাখা অফিসে নিয়ে আসা হয়। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী জানান, উদ্ধার হওয়া নাবিকরা বর্তমানে নৌযান অফিসে অবস্থান করছেন এবং তারা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পদক্ষেপ নেবেন।
তিনি আরও জানান, এই দুর্ঘটনার ফলে বন্দরের চ্যানেলটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।