বিশ্বব্যাপী বন্ড মার্কেটের আকার ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বর্তমানে প্রায় দেড়শ ট্রিলিয়ন ডলার। উন্নত দেশগুলো পরিবেশ রক্ষায় এই ধারণাকে কাজে লাগাচ্ছে গ্রিন বন্ডের মাধ্যমে।
গ্রিন বন্ড মূলত পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় সহায়ক প্রকল্পে ইস্যু করা হয়। সোলার সিস্টেম, বায়ু বিদ্যুৎ, জলবিদ্যুৎ, রিসাইক্লিং এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির মতো প্রকল্পে এর ব্যবহার বাড়ছে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় গ্রিন বন্ডের সুযোগ নিতে চায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইতোমধ্যে গ্রিন বন্ড চালুর জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরি করেছে এবং বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য অনুমোদন পেয়েছে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব।
এছাড়া, ইউরোপীয় ইউনিয়নের গ্লোবাল গ্রিন বন্ড ইনিশিয়েটিভের মাধ্যমে প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরোর বেসরকারি পুঁজি সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, কনসেশনাল ঋণ হ্রাস পাচ্ছে, তাই নতুন ধরনের ফাইনান্সিংয়ের প্রয়োজন।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশ মার্কেটে গ্রিন বন্ড ইস্যুর জন্য কাজ করবে। বিনিয়োগকারীরা গ্রিন বন্ডের ক্রাইটেরিয়া পূরণ করেছে কিনা তা যাচাই করে বিনিয়োগ করবেন।
নলেজ হাব ইন্সটিটিউটের সভাপতি ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, মধ্য আয়ের মানুষ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তবে বন্ড মার্কেটগুলোকে শুধু অর্থ সংযোগের জন্য ব্যবহার করা হয়। গ্রিন বন্ড নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে, যেখানে ইনস্টিটিউশনাল ও ব্যক্তিগত ফান্ড আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
গ্রিন বন্ডের জন্য ন্যূনতম ইস্যু ফি নির্ধারণ ও করছাড়ে প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএসইসি।