রাজধানী ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সরকার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ৩২টি রুটে আলাদা ৩২টি কোম্পানির বাস চলাচল করবে। তবে প্রশ্ন উঠছে, এই উদ্যোগ কি সফল হবে?
গত কয়েকটি সরকারের সময়ে গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু সেগুলো কার্যকর হয়নি। বর্তমান সরকার ৩২টি রুটে বাসের চলাচল পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনা করেছে, যা একটানা অসুস্থ প্রতিযোগিতা রোধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকার সড়কে যানজট হচ্ছে সবচেয়ে বড় সমস্যা, যার মূল কারণ অপরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থা। অতীতে রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো সফল হয়নি। ২০২১ সালে শুরু হওয়া 'ঢাকা নগর পরিবহন' প্রকল্পও সমন্বয়ের অভাবে ব্যর্থ হয়েছে।
বাস চালকদের অভিযোগ, সময়সীমার বাধার কারণে যাত্রীদের সঠিকভাবে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তারা জানান, প্রতিযোগিতার কারণে দুর্ঘটনার হার বেড়েছে এবং যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঢাকার বাস রুটগুলো ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। প্রতিটি রুট একটি নির্দিষ্ট কোম্পানি পরিচালনা করবে, যা বাসের সংখ্যা, স্টপেজ, ই-টিকিটিং এবং জিপিএস ট্র্যাকিং সুনির্দিষ্ট করবে।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মসিউর রহমান জানান, নতুন উদ্যোগের ফলে বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজে থামবে এবং যাত্রীদের সঠিকভাবে পরিবহন করবে। ইতোমধ্যে ৬টি রুট চূড়ান্ত হয়েছে এবং ১৮ অক্টোবর থেকে পরীক্ষামূলকভাবে সেবা চালু করা হবে।
গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মালিকদের বিনিয়োগ এবং তাদের দায়িত্ব গ্রহণের ওপরই এই উদ্যোগের সফলতা নির্ভর করছে।
রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে অতীতে নানা উদ্যোগের সফলতা প্রশ্নবিদ্ধ হলেও, সরকারী এই নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।