প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতি এই আহ্বান জানান।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রোগীদের সাথে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের মধ্যে পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার উন্নয়নের নির্দেশ দেন।
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর প্রকোপ নভেম্বর পর্যন্ত বেড়ে যায়। এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।’ তিনি তরুণদের বলেন, ‘দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
প্রধানমন্ত্রী ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, ‘ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।’
তিনি শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই দেশের নাগরিক। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী নগরীতে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান এবং বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হচ্ছে। নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।'
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতি পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’
তিনি বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন—এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।’