শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
অর্থনীতি

সৌদি হামলার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সংকট

সৌদি হামলার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসীদের রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা।

সৌদি হামলার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সংকট

সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সংকট সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গেছেন ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪২৭ জন কর্মী। তাদের মধ্যে ৫১ শতাংশেরও বেশি কর্মী গেছেন সৌদি আরবে, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার।

রিয়াদে বিমানবন্দরে হামলার পর সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। ছুটিতে দেশে আসা কর্মীরা কাজে ফিরতে পারছেন না, ফলে তাদের ভিসার মেয়াদ ও চাকরি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরে সৌদিগামী এক যাত্রী জানান, ‘আমাকে বলতেছে ১৬ তারিখ এখানে এসে তাদের সাথে কথা বলার জন্য।’ অন্য এক যাত্রী বলেন, ‘ফ্লাইট বন্ধ হওয়ার বিষয়টি আগে জানানো উচিত ছিল।’

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে সৌদি প্রবাসীরা বাংলাদেশে ১৯৫ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৯ শতাংশের বেশি। সৌদি শ্রমবাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে, তাদের ভিসার মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানো উচিত।’ তিনি কোভিডের সময়ের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করেন, যখন এই সমস্যা সমাধান করা গিয়েছিল।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু কর্মীদের বিদেশযাত্রা নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশে শ্রমিকদের পাঠানোর চেষ্টা করতে হবে।’

সংকট মোকাবিলায় সরকারি সংস্থা, রিক্রুটিং এজেন্সি ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

বিজ্ঞাপন