সম্প্রতি খুলনা মহানগরীতে পুলিশ পরিদর্শক মোঃ শাহ আলমের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে, সাদা পোশাকে রূপসা ফেরি পার হয়ে রিকশাযোগে পুলিশ ক্লাবে যাওয়ার পথে কলেজিয়েট স্কুলের কাছে তিনজন ছিনতাইকারী তাকে আক্রমণ করে।
এই হামলার সময় ছিনতাইকারীরা তার মানিব্যাগ ও দুইটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে একজন ছিনতাইকারী চাপাতি দিয়ে তাকে আঘাত করে। আত্মরক্ষার্থে হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করতে গিয়ে তার উভয় হাত গুরুতরভাবে জখম হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে, পুলিশ সুপার খুলনা ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে তাকে ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
অবস্থার অবনতি হলে তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের স্বল্পতার কারণে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তার উভয় হাতে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।
বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তবে তার দুই হাতের কয়েকটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে সেগুলোর কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গত শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপার খুলনার স্বাক্ষরে একটি আন্তবিভাগীয় নির্দেশনামূলক অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে। আদেশটি খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে।
এটি কোনোভাবেই খুলনা জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা কিংবা জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে জারি করা হয়নি। খুলনা জেলা পুলিশ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।