বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। টিআরপি বা 'টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট' নির্ধারণের পদ্ধতি নিয়ে নানা বিতর্ক চলছে।
টিআরপি নির্ধারণের জন্য দর্শকদের টিভিতে বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করা হয়, যা দেখায় কোন চ্যানেল কত দর্শক দেখছেন। এই রেটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপনের বাজারে কোটি কোটি টাকা ভাগ হয়। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, টিআরপি কি সত্যিই দর্শকদের পছন্দের প্রতিফলন, নাকি এটি একটি কারসাজি?
বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) ২০২৪ সালের এপ্রিলে টিআরপি সেবা চালু করে। তবে, শুরু থেকেই অভিযোগ উঠেছে যে, টিআরপি নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় 'পিপল মিটার' ডিভাইসের সংখ্যা অত্যন্ত কম। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাত্র ২০০টি ডিভাইস বসানো হয়েছে, যা দেশের কোটি কোটি দর্শকের পছন্দ-অপছন্দ নির্ধারণের জন্য অপ্রতুল।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় বেশ কিছু চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ ছিল। কিন্তু বিএসসিএল-এর রিপোর্টে দেখা যায়, সেই বন্ধ থাকা চ্যানেলগুলোর জন্য রেকর্ড দর্শক দেখানো হয়েছে। এ নিয়ে টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন 'অ্যাটকো' তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, টাকার বিনিময়ে কৃত্রিমভাবে টিআরপি বাড়ানো যায়। ফলে, যে চ্যানেলের রেটিং বেশি, সেই চ্যানেল বিজ্ঞাপনের দাম বাড়াতে পারে।
চ্যানেল মালিকরা এখন আন্তর্জাতিক মানের নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে টিআরপি জরিপের দাবি তুলেছেন। তারা পর্যাপ্ত ডিভাইস স্থাপন ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
টিআরপি সিন্ডিকেটকে রুখতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তবেই গণমাধ্যম শিল্পে আস্থা ফিরে আসবে।