সৌদি আরবের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় ১২ জন নিহত হয়েছে, এর মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০৯ জন।
হুতিরা জানায়, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ার কারণে তাদের এই হামলা। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের উপকূলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দ্রুত দখল করার পর সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
হামলার আগে, হুতিরা বাব আল মান্দেব প্রণালির কাছে মোকা বন্দর দখল করে নেয়, যা আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী দাবি করে, তারা এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে।
২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট গঠন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং হুতিদের ঠেকানো। দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের কারণে ইয়েমেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে।
২০২২ সালে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও, গত জুলাইয়ে তা ভেঙে পড়ে। হুতিরা সৌদি আরবের ওপর সমুদ্রপথে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেয় এবং বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে।
হুতিরা দাবি করেছে, সৌদি আরবের কয়েক বছর ধরে চলা অবরোধের প্রতিশোধ নিতে তারা এই হামলা চালাচ্ছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানার বিমানবন্দরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার কথাও তারা জানায়।