সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৩০০ জন আহত হয়েছে। শনিবারের এই হামলায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি, দুইজন বাংলাদেশি, এবং একটি করে নাগরিক যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, Palestina, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের রয়েছেন, জানিয়েছে সৌদি সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ।
এটি গত দশকের মধ্যে সৌদি আরবে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন ইয়েমেনে যুদ্ধ আরও তীব্র হচ্ছে, হুথিরা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে লড়াই করছে। সৌদি আরব হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান অভিযান চালাচ্ছে, যা ইয়েমেন সরকারের স্থলযুদ্ধে সহায়তা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলাটিকে “ভয়াবহ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শীঘ্রই কথা বলার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা হয়তো এ যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত হব। আমরা বিষয়টি দেখছি।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলায় একজন আমেরিকানের মৃত্যু হওয়ার কথা উল্লেখ করে এই হামলাকে “অবৈধ” বলে অভিহিত করেন এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ হামলাটিকে “গুরুতর উত্তেজনা” হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং বলেন, “এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর হুমকি।”
মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হুথি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি এই হামলাকে “স্পষ্ট লঙ্ঘন” হিসেবে উল্লেখ করেছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও হামলাগুলোর নিন্দা করেছে, যা সৌদি সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে বলেছে, “আমরা সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যে কোনো পদক্ষেপকে সমর্থন করি।” জাপানের দূতাবাসও হামলাগুলোর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, “নাগরিকদের উপর হামলা কোন অবস্থাতেই সহ্য করা যায় না।”