বাংলাদেশের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী আনোয়ার হোসেনের কর্মজীবন ও অবদান নিয়ে আলোচনা চলমান। ১৯৮১ সালে 'সূর্য দীঘল বাড়ী' সিনেমার ওপর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদ একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে। সেখানে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস মন্তব্য করেন, "এই ছবিতে ক্যামেরা কাজ করে জীবন্ত শিল্পীর মতো।" আনোয়ার হোসেন ছিলেন সেই সৃজনশীল মানুষ, যার হাতের কাজ চলচ্চিত্র শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছে।
আনোয়ার হোসেনের উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে 'এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী' (৮০), 'পুরস্কার' (৮৩), 'সুরুজ মিয়া' (৮৪), 'দহন' (৮৫), এবং 'লালসালু' (২০০১)। তিনি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'হুলিয়া' (৮৪) এবং 'চাকা' (৯৩)-এও কাজ করেছেন। তার ক্যামেরায় জীবন্ত হয়ে উঠেছে অসংখ্য দৃশ্য, যা আজও প্রজন্মের প্রভাবিত করছে।
১৯৬৭ সালে আনোয়ার হোসেন প্রথম পুরস্কার জেতেন একটি ছবির মাধ্যমে। এরপর তিনি আন্তর্জাতিক কনটেস্টে অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেন। ৭৮ সালের কমনওয়েলথ কনটেস্টে তিনি ৯টির মধ্যে ৬টি পুরস্কার একাই জয় করেন, যা বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের বিষয় ছিল।
আনোয়ার হোসেনের জন্ম ১৯৪৮ সালের ৬ অক্টোবর পুরান ঢাকায়। তিনি ছোটবেলায় চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু পরে আলোকচিত্রের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ৭৪ সালে পুনে ফিল্ম ইন্সটিটিউটে ডিপ্লোমা করার পর দেশে ফিরে 'সূর্য দীঘল বাড়ী' এবং 'এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী'তে কাজ শুরু করেন।
৯৩ সালে আনোয়ার হোসেন স্থায়ীভাবে ফ্রান্সে বসবাস শুরু করেন। তিনি দেশে ফিরে আসার জন্য অভিমানী হয়ে পড়েন, কারণ তিনি মনে করেন দেশের চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিতে অনেকেই সিনেমার সাথে দেশও নিয়ন্ত্রণ করেন।
আনোয়ার হোসেনের জীবনে অনেক পুরস্কার ও সম্মাননা এসেছে, কিন্তু তিনি কখনোই এসবের প্রতি আগ্রহী ছিলেন না। ৯১ সালে স্ত্রী ডলি আনোয়ারের মৃত্যুর পর তিনি অনেক সময় ঘুরে বেড়িয়েছেন। ২০০৩ সালে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমার ছেলে দুটির বয়স ১৮ হলে আমি হয়ত বেঁচে থাকব না, কিন্তু তারা বাবার সিল করা খাম পাবে।"