সাতক্ষীরার তালা থানায় পুলিশ গাফিলতির কারণে এক কলেজ ছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায়, জালালপুর ইউনিয়নের ধুলান্ডা গ্রামে, নিজ বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ পাওয়া যায়। পরিবারের অভিযোগ, মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
মৃত কলেজ ছাত্রীর বাবা, লিটন শেখ জানান, প্রতিবেশী রকি শেখ, শোয়েব মালী ও ইমন শেখ কলেজে যাতায়াতের পথে তার মেয়েকে কুপ্রস্তাব দিতো। গত ২ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুরে, প্রতিবেশী আমজেত শেখ তাকে ধরে নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মারধর করে। এই ঘটনায় লিটন শেখ তালা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন, কিন্তু পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।
লিটন শেখ বলেন, "থানা পুলিশ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে হুমকি দিতে থাকে।" সোমবার সন্ধ্যায়, তার মেয়েকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত কলেজ ছাত্রীর মামা, সাদ্দাম হোসেন জানান, ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা অবস্থায় তার ভাগ্নির পা মাটিতে ছিল এবং গলায় রশির দাগ নেই। তিনি দাবি করেন, হত্যার পর তাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
তালা থানার ওসি আবু বক্কর সিদ্দীকির সাথে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তালা সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার আক্তারুল ইসলাম বলেন, "মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ খোঁজখবর নিচ্ছিল, এর মধ্যেই এমন ঘটনা ঘটেছে।" তিনি জানান, আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সাতক্ষীরা মানবাধিকার কর্মী মাধব দত্ত বলেন, "আইনী পদক্ষেপ নেওয়ার পরও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ঘটনার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।"