শনিবার, ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
ব্রেকিং
ধর্ম

স্থায়ী ঠিকানা অভাবে আটকে গেছে মিশন আচার্যের শিক্ষক নিয়োগপত্র

মিশন আচার্যের শিক্ষক নিয়োগপত্র স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে আটকে গেছে।

স্থায়ী ঠিকানা অভাবে আটকে গেছে মিশন আচার্যের শিক্ষক নিয়োগপত্র

মিশন আচার্য, যিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন। কিন্তু স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে তার নিয়োগপত্র আটকে গেছে। বর্তমানে তিনি সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে চাকরির আশায় ঘুরছেন।

৩০ বছর বয়সী মিশন আচার্যের বাড়ি ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগান এলাকায়। বাবা নন্দ আচার্য তাদের ছোটবেলায় ছেড়ে চলে যান এবং মা ময়না আচার্য গৃহপরিচারিকার কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেছেন। মিশন জানান, তার সঙ্গে মোট ১৮২ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ১৮০ জন নিয়োগপত্র পেয়েছেন।

মিশন জানান, তার নিয়োগ আটকে আছে স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে। ঝিনাইদহ শহরের কলাবাগানে ভাড়া বাসায় থাকেন এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদে একই ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। পুলিশি যাচাইও সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু তবুও নিয়োগপত্র পাননি তিনি।

মিশনের মামা বিষ্ণুপদ বিশ্বাস ২০২২ সালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পণ্ডিতপুর গ্রামে বাড়ি করার জন্য দুই শতক জমি দেন। চাকরি পেলে সেখানে বাড়ি তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল মিশনের। কিন্তু নিয়োগপত্র না পাওয়ায় সেই পরিকল্পনা এখন অনিশ্চিত।

মিশন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করেছেন। তার বন্ধু জিহাদ হোসেন একই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিয়োগপত্র পেয়েছেন এবং মিশনের সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করছেন।

ঝিনাইদহের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন জানান, মিশনের অভিযোগ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের আশা করছেন। জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনও জানিয়েছেন যে, স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

মিশনের বড় ভাই শৈলেন আচার্য বলেন, তাদের জীবন কেটেছে অনেক কষ্টে। মিশনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বাড়িঘর না থাকার কারণে নিয়োগপত্র না পাওয়া তাদের জন্য আরও কষ্টের। ২০২২ সালে বরিশালের কলেজছাত্রী আসপিয়া ইসলামের চাকরিও জমি না থাকার কারণে আটকে গিয়েছিল।

মিশন আচার্যের ক্ষেত্রেও এখন অপেক্ষা একটি সমাধানের। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি হিসেবে নিয়োগের সুপারিশ পেলেও নিয়োগপত্র কবে হাতে পাবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।

বিজ্ঞাপন