ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধরের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে ধর্ষণ ও আত্মহত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা এবং আগুন দেওয়ার ঘটনায় পরিণত হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিল্লি-অমৃতসর জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করেন। তারা কথিত ধর্ষণের ঘটনায় এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য প্রতিবেদন) দায়েরের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুরুতে এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছিল।
পুলিশ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের 'জি-৩' হোস্টেলে থাকা এক ছাত্রীকে তিন দিন আগে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। জলন্ধর রেঞ্জের ডিআইজি নবীন সিংলা জানান, প্রাথমিক তদন্তে এই ঘটনাটি নিশ্চিত হয়েছে। ওই ছাত্রী বর্তমানে নিজ বাড়িতে চলে গেছেন।
ডিআইজি সিংলা বলেন, ওই শিক্ষার্থীর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ধারায় এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত ডিজিটাল ও প্রযুক্তিগত তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।
বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা তেলেঙ্গানার এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাও সামনে আনেন। পুলিশ জানায়, ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য নেওয়ার পর প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
ডিআইজি সিংলা জানান, শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ওই মৃত্যুর ঘটনাটিও নতুন করে তদন্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ধর্ষণ ও আত্মহত্যার দাবিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।