বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
জাতীয়

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে সরকার

বাংলাদেশ সরকার বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে।

বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে সরকার

বাংলাদেশ সরকার দেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে।’ এ চুক্তির আওতায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১১টি বোয়িং বিমান কিনবে। সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ উল্লেখযোগ্য।

তিনি জানান, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এবং তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

মাহদী আমিন জানান, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে এবং সংলাপের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেছেন এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, ‘কূটনীতিতে সব দরজা এবং সব বিকল্প খোলা রাখতে হয়। আলোচনার পথ কখনো বন্ধ করা যায় না।’

বিজ্ঞাপন