প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন তারা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করেন। বুধবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের সভায় তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য সুলভ অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণেরও আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের অবদান উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে দেশের অবদান ০.৫ শতাংশেরও কম, অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। তিনি সতর্ক করেন যে, আসন্ন শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে দেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানিতে তলিয়ে যেতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ। চলতি বছরের বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য ৩.১৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। তবে তিনি আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি এড়াতে বাংলাদেশ সক্ষম নয় বলে উল্লেখ করেন।
আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা ও পানি সংরক্ষণ, বন্যার ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে নদী ও খাল খননের কাজ চলমান রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের বিদ্যুতের চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু মোকাবিলায় পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি জানান, বাংলাদেশ তার জলবায়ু পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, এমন অংশীদারত্ব প্রত্যাশা করে। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে অবস্থান করছেন এবং ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেবেন।