সুনামগঞ্জের ছাতকে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে ২০০টিরও বেশি অবৈধ চুন কারখানা চলমান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ‘পাজু’ নামে পরিচিত এসব কারখানায় প্রতিদিন পোড়ানো হচ্ছে শত শত মণ কাঠ।
এতে আশপাশের বসতবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়াচ্ছে বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাই, যা জনস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাতকের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ চুনের কারখানা চোখে পড়ে, যা ঐতিহ্যবাহী চুন শিল্পের নামে পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক।
প্রতিটি পাজুতে চুন পোড়াতে প্রায় দেড় হাজার মণ কাঠ প্রয়োজন হয়, ফলে বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এই পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
পাজু থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন, ছাই ও গ্যাসের কারণে এলাকাবাসী চরম আতঙ্কে রয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চোখ ও ফুসফুসজনিত রোগ বাড়ছে। সুনামগঞ্জের পরিবেশকর্মী এ কে কুদরত পাশা জানান, ‘ভুলভাবে চুন পোড়ানোর কারণে ব্যাপক কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক বলেন, ‘অবৈধ এসব কারখানার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। তবে এদের বিরুদ্ধে নোটিস জারির করা হয়েছে।’
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমরা ব্যবস্থা নেব।’ সচেতন মহল অবিলম্বে সব অবৈধ চুন কারখানা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।