জাপানে প্রতি বছরের মতো এবারও শতায়ু জনসংখ্যার রেকর্ড গড়েছে। ১০০ বছরের বেশি বয়সী জনগণের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জনে, যার মধ্যে ৮৮ শতাংশই নারী।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গড় আয়ু নতুন উচ্চতায় পৌঁছালেও, এর সঙ্গে বেড়েছে নানা সমস্যা। জন্মহার ও কর্মক্ষম জনসংখ্যার ঘাটতি দেশের ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
জাপানে ২০২৫ সালে ৮ লাখ মানুষ ৯৫ বছর পূর্ণ করবেন, কিন্তু সেই সময়ে জন্ম নেবে মাত্র ৭ লাখ শিশু। ২০০৮ সালে জনসংখ্যা ১২ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছালেও, এরপর থেকে তা কমতে শুরু করেছে। ২০৭০ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ৮ কোটি ৭০ লাখে নেমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া ২০২৫ সালে জন্মহার কমে ১ দশমিক ১৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে অনেক কম। এর ফলে প্রবীণদের পেনশন ও সেবার জন্য অর্থ ও কর্মীর জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে জাপান সরকার।
শিশুদের জন্য ভাতা ও অভিভাবকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়া সত্ত্বেও জন্মহার বাড়ছে না। কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে আয়কর ও নিরাপত্তা তহবিলেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে। নির্মাণ, কৃষি, পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাতে দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমসংকট।
দীর্ঘায়ুর এই বিশ্বরেকর্ড স্বস্তিদায়ক হলেও, জন্মহার হ্রাস ও শ্রমবাজারের সংকোচন জাপানের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।