রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
ব্রেকিং
অপরাধ

ঢাকায় মাদকের গোপন ল্যাবের সন্ধান, নতুন চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়

ঢাকায় আবাসিক ভবনে গোপন মাদকের ল্যাবের সন্ধান, নতুন চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়।

ঢাকায় মাদকের গোপন ল্যাবের সন্ধান, নতুন চ্যালেঞ্জ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায়

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ও আশপাশে মাদক তৈরির গোপন ল্যাব ও কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) জানায়, এসব ল্যাব আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে গড়ে উঠেছে।

চলতি বছরের শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একাধিক মিনি ল্যাবের সন্ধান পায়। জানুয়ারিতে ওয়ারীর একটি বাসায় কুশ চাষের নিয়ন্ত্রিত ল্যাব আবিষ্কৃত হয়। একই সময়ে ভাটারার একটি ফ্ল্যাটে ভেজাল মদ তৈরির কারখানা পাওয়া যায়।

ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির ল্যাব ধরা পড়ে এবং মার্চে উত্তরার একটি ফ্ল্যাটে কেটামিন প্রক্রিয়াজাত করার ল্যাব আবিষ্কৃত হয়। জুলাই ও আগস্টে কেরানীগঞ্জে একাধিক ইয়াবা তৈরির কারখানা শনাক্ত করা হয়।

ডিএনসি কর্মকর্তাদের মতে, মাদক উৎপাদনের ধরন এখন প্রযুক্তি ও কারিগরি দক্ষতা ব্যবহার করে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে। এসব ল্যাবের অনেকগুলো সাধারণ আবাসিক ভবনে গড়ে উঠেছে।

৭ জানুয়ারি ভাটারায় অভিযান চালিয়ে একটি ফ্ল্যাটে ভেজাল মদের মিনি ল্যাবের সন্ধান পাওয়া যায়। অভিযানে ভেজাল মদ, বিদেশি মদ, বিয়ার ও বিভিন্ন রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়।

ফেব্রুয়ারিতে টঙ্গীর বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইয়াবা ও তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। অভিযানে ল্যাবের মালিক গ্রেপ্তার হন।

কেরানীগঞ্জে জুলাইয়ের শেষ দিকে একটি ইয়াবা কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে চীনের তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্র আন্তর্জাতিক কুরিয়ার ব্যবহার করে বিদেশে মাদক পাঠানোর চেষ্টা করছিল।

ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় দেশি-বিদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততা এবং প্রযুক্তির ব্যবহার সামনে এসেছে। স্থানীয় কারিগরি দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে মাদক ব্যবসার ধরন বদলে যাচ্ছে।

ঢাকায় গড়ে ওঠা এসব গোপন ল্যাব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, রাজধানী ও আশপাশে আরও কতগুলো গোপন মিনি ল্যাব সক্রিয় রয়েছে?

বিজ্ঞাপন